স্টাফ রিপোর্টার :
গোপালগঞ্জ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বর্ণপালক। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর চূড়ান্ত মূল্যায়নে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন মোছা: জ্যোৎস্না খাতুন। ঢাকা বিভাগীয় বাছাই কমিটির প্রকাশ করা অফিশিয়াল ফলাফলে তাঁর এই অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলার ইতিহাসে তিনিই প্রথম কর্মকর্তা, যিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে এই গৌরবময় ও শীর্ষ সম্মান অর্জন করলেন।

গত ৩ জুন প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিভাগীয় বাছাই কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক মো: আবদুল আজিজ স্বাক্ষরিত ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলায় শিক্ষার আধুনিকায়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং অনন্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটে ভূষিত করা হয়। প্রথমবারের মতো অর্জিত এই বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বে বর্তমানে গোপালগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
বিভাগীয় এই অনন্য অর্জনে অনুভূতি ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করে শ্রেষ্ঠ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা: জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কাজের গতি, সততা ও দায়িত্ববোধকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। গোপালগঞ্জ জেলায় যোগদানের পর থেকেই আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই ঐতিহাসিক গৌরব শুধু আমার একার নয়; এটি জেলার সকল শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মচারী ও অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। আমি আজীবন পরম নিষ্ঠার সাথে গোপালগঞ্জ জেলাসহ দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং একটি স্মার্ট ও আলোকিত প্রজন্ম গড়তে কাজ করে যেতে চাই।

মোছা: জ্যোৎস্না খাতুন ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে গোপালগঞ্জে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সঠিক ব্যবহার এবং শিক্ষকদের পেশাগত মান বৃদ্ধিতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। তাঁর এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে এক সুদীর্ঘ, সততা ও নিষ্ঠাপূর্ণ কর্মময় পথচলা। ১৯৯৭ সালের ১২ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে তিনি তাঁর চাকুরিজীবন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ ২৯ বছরের পেশাদারিত্ব এবং মাঠপর্যায়ের কাজের সুগভীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আজ ঢাকা বিভাগের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করে গোপালগঞ্জবাসীর জন্য এই অনন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
শ্রেষ্ঠ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সূচক ব্যবহার করা হয়। মূলত একজন কর্মকর্তার চাকুরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ কিছু বিষয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বিভাগীয় ও জাতীয় মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে রয়েছে জেলার আওতাধীন সকল উপজেলা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক চেইন শক্তিশালী রাখা, নিয়মিত মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং সার্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। একই সাথে জেলায় স্কুলগামী শিশুদের শতভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য যাচাই করা হয়। পাশাপাশি সমাপনী ও বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষায় জেলার সামগ্রিক ফলাফল ও পাসের হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, শ্রেণীকক্ষে আইসিটির ছোঁয়া তথা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের শতভাগ কার্যকারিতা আনা এবং শিক্ষকদের আধুনিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এছাড়া শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে কাব স্কাউটিং, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং জেলাব্যাপী সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে বেগবান করা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে সক্রিয় রাখা, উপবৃত্তি বণ্টন ও স্লিপ ফান্ডের সরকারি অনুদানের শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার মতো দূরদর্শী প্রশাসনিক বিষয়গুলো কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
মোছা: জ্যোৎস্না খাতুনের যুগান্তকারী এ সাফল্যে জেলা শিক্ষা অফিস, বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক সমাজসহ গোপালগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হয়েছে। জানিয়েছেন শুভেচ্ছা।