কোটালীপাড়া সংবাদদাতা:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নিলেন যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া। তবে জেলখানা থেকে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বাবার জানাজার নামাজে অংশ নিতে পারেননি তিনি। জানাজা শেষে কবরে মরদেহ নামানোর সময় আবেগাপ্লুত চঞ্চল বিলাপ করে বলেন, “আমি এক হতভাগ্য ছেলে।”
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চঞ্চল মিয়ার বাবা আব্দুল হক গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রবিবার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পান। পুলিশি পাহারায় বিকেল ৩টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, ততক্ষণে জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়।
পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে কবরস্থানে নিয়ে যান চঞ্চল। দাফন শেষে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাঁকে পুনরায় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।
দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে চঞ্চল মিয়া বলেন, “আমি বাবার এক হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় পাশে থাকতে পারিনি, এমনকি জানাজায়ও অংশ নিতে পারলাম না। আপনারা আমার বাবাকে ক্ষমা করে দেবেন।”
চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম জানান, গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ চঞ্চলকে আটক করে। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় (মামলা নং ১৫২/২৫) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিলকিস বেগম তাঁর স্বামীকে নিরপরাধ দাবি করে অনতিবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, আদালতের আদেশে পুলিশি পাহারায় চঞ্চল মিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছিল। দাফন প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আবারও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।