টুঙ্গিপাড়া সংবাদদাতা:
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় এখন এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে টিকে আছেন ৮ জন প্রার্থী। আজ বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান তাঁর কার্যালয়ে প্রার্থীদের হাতে চূড়ান্ত এই প্রতীক তুলে দেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার :
গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোপালগঞ্জ-৩ (২১৭) আসনে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তাঁরা হলেন: রেজাউল করিম (জামায়াতে ইসলামী) আরিফুল দরিয়া (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি) ও আলী আহমেদ (খেলাফত মজলিস)।
নির্বাচনী লড়াইয়ে ৮ প্রতিদ্বন্দ্বী ও তাঁদের প্রতীক:
মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী ৬ জন দলীয় এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের তালিকা ও তাঁদের প্রতীক একনজরে নিচে দেওয়া হলো:
১. এস. এম. জিলানী — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), প্রতীক: ধানের শীষ ২. মারুফ শেখ — ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, প্রতীক: হাতপাখা ৩. আবুল বাশার দরিয়া — গণঅধিকার পরিষদ, প্রতীক: ট্রাক ৪. আব্দুল আজিজ মাক্কী — বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, প্রতীক: রিক্সা ৫. শেখ সালাউদ্দিন — ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), প্রতীক: আম ৬. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস — গণফোরাম, প্রতীক: উদীয়মান সূর্য ৭. অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব — স্বতন্ত্র প্রার্থী, প্রতীক: ফুটবল ৮. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক — স্বতন্ত্র প্রার্থী, প্রতীক: ঘোড়া
সরগরম নির্বাচনী মাঠ:
প্রতীক বরাদ্দের পর মুহূর্তেই টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা জুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নেমেছেন। নেতাকর্মীদের নিয়ে হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় চলছে গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষায় কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।