ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবি: গোপালগঞ্জের ২ তরুণের মৃত্যু, ৬ জন নিখোঁজ
অবৈধ পথে ইতালি যাত্রায় আবারও মর্মান্তিক পরিণতি
স্টাফ রিপোর্টার
অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একই গ্রামের আরও ছয়জন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। এই ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতেরা হলেন, পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে আনিস শেখ ও পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের আকোব আলী শেখের ছেলে এনামুল শেখে।
ওই ঘটনায় নিখোঁজ রেয়েছেন, পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের আওলাদ শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ, একই গ্রামের হায়দার শেখের ছেলে ধলা শেখ, ইকরাম মীনার ছেলে দুলাল মীনা, হায়দার মীনার ছেলে আশিক মীনা, পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের খালেক মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা এবং কাশালিয়া ইউপির গুনহর গ্রামের হাফিজ মীনার ছেলে নিয়াজ মীনা।
নিহত এনামুল শেখের পিতা আকোব আলী শেখ জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়ার আল খুমস উপকূল অঞ্চল থেকে তার ছেলেসহ কয়েকজন একটি বোটে করে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাঝপথে কোস্টগার্ড তাদের ধাওয়া করলে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে তার ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, “গত এক মাস আগে মাদারীপুরের দালাল এনামুলের মাধ্যমে ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ছেলেকে লিবিয়া পাঠিয়েছিলাম। এক মাস পরে তাকে ‘গেম’ দিয়েছে। ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ছেলে লাশ হলো। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের লাশটা দেশে আনতে ব্যবস্থা করে দিন।”
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে সরেজমিনে নিহতদের পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে এই মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতেও লিবিয়ার আল খুমজ এলাকায় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৪ জন বাংলাদেশীর মৃত্যু ঘটেছিল। অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার এই প্রবণতা বহু তরুণের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান বলেন, বিষয়টি মৌখিক ভাবে জানতে পেরেছি। অফিসিয়ালভাবে কাগজপত্র পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।