Jugersathi

বিদেশ নেওয়ার নামে ৪০ লাখ টাকার প্রতারণা: টাকা ফেরতের দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার :
বিদেশে নিয়ে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা প্রতারণামূলকভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে গোপালগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
​শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো: নাছির উদ্দিন এবং তার পরিবার।

​সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতান শাহী গ্রামের মহসিন চৌধুরীর ছেলে মাসুদ রানা বিল্লাল, ঘোষেরচর ইসলামপাড়া এলাকার মোঃ ইকবাল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে দুবাই নিয়ে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন।  প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর কয়েক দফায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেন বিল্লাল। সেই সুবাদে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে নাছিরকে দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কোনো ব্যবসা না দিয়ে উল্টো নাছিরের ওপর  নানাভাবে অত্যাচার শুরু করা হয়। চার মাস পর কোনো উপায় না পেয়ে নাছির দেশে ফিরে আসেন।

​দেশ ফেরত আসার পর বিল্লালের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে টালবাহনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিল্লাল তার অপরাধ স্বীকার করে ২৮ লাখ টাকা কয়েক কিস্তিতে ফেরত দেওয়ার একটি লিখিত মুচলেকা দেন।

​ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে অভিযুক্ত মাসুদ রানা বিল্লাল মারা যান। তবে তাকে তার নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন না করে তড়িঘড়ি করে খুলনায় তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে নাছিরের বাবা ইকবাল হোসেন খুলনায় গিয়ে তার পাওনা টাকার দাবি জানান। সে সময় বিল্লালের স্ত্রী আয়েশা আক্তার রুমা টাকা ফেরত দেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেন এবং দাফন কার্যে কোনো বাধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে শ্বশুরবাড়িতেই বিল্লালের দাফন সম্পন্ন হয়।

নাছিরের মা আম্বিয়া আক্তার লাকি বলেন,​টাকা নেয়ার সময় বিল্লালের স্ত্রী রুমা কয়েকবার আমাদের বাসায় এসে টাকার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছিল। এখন বিল্লাল মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও রুমা একটি টাকাও ফেরত দেয়নি। উল্টো ফোনে যোগাযোগ করলে আমাদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।

​সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নাছিরের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য  ইকবাল হোসেন জানান, বিল্লাল সম্পর্কে তার চাচাতো বোনের ছেলে। নিজের ভাগ্নের মতো স্নেহ করতেন বলেই অন্ধ বিশ্বাসে জীবনের সব উপার্জন তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের মর্যাদা না দিয়ে তারা আজ পুরো পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের পাওনা টাকা উদ্ধার এবং আয়েশা আক্তার রুমার হুমকির হাত থেকে বাঁচতে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Scroll to Top