স্টাফ রিপোর্টার :
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার খাল পুনঃখনন প্রকল্প ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ছোট ডুমুরিয়া খাল, ঝনঝনিয়া খাল ও সিলনা গুয়াদানা খালে বর্তমানে খনন কাজ চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সীমার বাইরে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে অতিরিক্ত জমি কেটে সেখানে মাটি ফেলা হচ্ছে। এতে খাল পাড়ের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফলজ, বনজ ও ঔষধি মিলিয়ে প্রায় সাত থেকে আট হাজার গাছ নিধন করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
crispwrm প্রজেক্টের আওতায় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ১৬ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ‘মুন কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি ৮৫ শতাংশ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এবং ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দিচ্ছেন। গাছ না কেটে যতটুকু খনন করা যায় সেটুকু করলে পরিবেশের কোন ক্ষতি হতো না। খননকাজ চলাকালে কিছু বসতঘর ভাঙা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, ঝনঝনিয়া খাল খননে মানুষের উপকার তো হবেই না, বরং বন্যার সময় এই খাল দিয়ে দুই গ্রামে পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া খননকাজ পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দ্বায়ীত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সোহাগ জানান, আমরা ঠিকাদারকে খাল খননের কাজ দিয়েছি, গাছ কাটার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তবে সাব-কন্ট্রাক্টর আওলাদ হোসেন গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খালের পাড়ের সরকারি জায়গায় ব্যক্তিমালিকানাধীন গাছ ছিল, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মালিকরাই কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মুন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মুনের সাথে মুঠফোনে যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, কাটা গাছের সঠিক হিসাব প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।