স্টাফ রিপোর্টার :
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে নিজের ৩ বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে শিশু ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে আটক করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, প্রায় ৪ বছর আগে গোবরা নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে সেতু বেগমের বিয়ে হয়। রুবেল বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল ৩ বছরের ফারিয়া। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রায় ৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ফরিদপুরের মিরাজ মুন্সীর সাথে পরিচয় হয় সেতুর। যা পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়।
প্রেমের এই অবৈধ পথে পথের কাঁটা সরাতে গত ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঘাতক মা সেতু বেগম নিজের সন্তান ফারিয়াকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহটি কৌশলে বাসার একটি ট্রাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান।
প্রেমের টানে পালালেও শেষ রক্ষা হয়নি সেতুর। যার জন্য নিজের সন্তানকে বিসর্জন দিয়েছিলেন, সেই প্রেমিক মিরাজ ১৬ দিন পর তাকে ফরিদপুরে তার মামার বাড়িতে রেখে সটকে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সেতু স্বীকার করেন যে, তিনি ফারিয়াকে হত্যা করে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছেন। শনিবার সেতুর মা ও মামা তাকে ফরিদপুর থেকে নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ সেতুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে গিয়ে ট্রাঙ্ক থেকে ফারিয়ার পচে-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, “আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মোল্লাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে, একমাত্র নাতনিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ফারিয়ার দাদা ও স্বজনরা। পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও শোক। এলাকায় দাবি উঠেছে, ঘাতক মায়ের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।