কোটালীপাড়া সংবাদদাতা:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর ছাত্রদল নেতাদের হামলার বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী মিনু খানম। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) সকালে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ৪ দফা দাবি পেশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মিনু খানম জানান, গত ১২ মার্চ কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি ও কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালে তিনি হলরুম থেকে বের হলে করিডোরে ওত পেতে থাকা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং টেনে-হিঁচড়ে নিচতলায় নামানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৭ মার্চ তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছেন।
মিনু খানম অভিযোগ করেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষের সামনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না, যা তথ্য গোপনের শামিল।” তিনি আরও জানান, ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মোবাইলে কল করে বিচারের আশ্বাস দিলেও গত ৩ দিন তিনি গোপালগঞ্জে অবস্থানকালে আহত সাংবাদিককে দেখতে যাননি বা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়: ১. থানায় দেওয়া অভিযোগটি অবিলম্বে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ২. চিহ্নিত হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। ৩. গ্রেপ্তারের ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট প্রদান করতে হবে। ৪. কোটালীপাড়াসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করতে হবে।
মিনু খানম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তবে তিনি সারাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে কাফনের কাপড় পরে অনশনসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।