Jugersathi

গোপালগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তার পৈত্রিক ভিটা দখল ও লুটপাট: পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা ও প্রশাসনের দ্বারস্থ অসহায় এক দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার :

উচ্চশিক্ষিত হয়ে সরকারি চাকরি নিয়ে দেশ সেবায় ব্যস্ত থাকাটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণা দিয়া গ্রামের বাসিন্দা এস.এম আবুল কাশেমের জন্য। পৈত্রিক ভিটা আগলে রাখার স্বপ্নে যখন তিনি বিভোর, ঠিক তখনই একদল প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে তার বসতবাড়ির ওপর। অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী মরিয়ম বেগম ও তার সহযোগীরা যোগসাজশ করে জোরপূর্বক তার বসতবাড়ি দখল করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার আসবাবপত্র, গবাদি পশু ও নির্মাণ সামগ্রী লুট করার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এস.এম আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং এলএলবি সম্পন্ন করে ঢাকায় সরকারি কর্মরত। গ্রামে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার মৃত্যুর পর থেকেই তার বসতবাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন জনৈক সবুজ শেখ ও তার পরিবার। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পাশ্ববর্তী জমির মালিক জনৈক মরিয়ম বেগম (৪২), শুকুর শেখ (৬৮), রাজু শেখ (৩০) এবং মোঃ ফারুক মুন্সী (৫০) গত ১৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে দলবল নিয়ে অনধিকার প্রবেশ করে ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা আবুল কাশেমের মালিকানাধীন ১৮ শতাংশ জমিসহ পৈত্রিক বসতঘরটিতে তালা লাগিয়ে অবৈধভাবে দখল করে নেয়।

ভুক্তভোগী আবুল কাশেম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঢাকা থেকে এলাকায় এসে মুকসুদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তৎকালীন ও.সি এবং এস.আই মোবারক হোসেন সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান এবং বিবাদীদের দখল ছেড়ে দিতে বললেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু নেতাদের ছত্রছায়ায় তারা দখল বজায় রাখে। এমনকি জমি মেপে আবুল কাশেমকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও, বিবাদী পক্ষ প্রশাসনের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে শালিসী বৈঠকে অশোভন আচরণ করে এবং তার স্ত্রীকে জনসম্মুখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দখলদাররা কেবল ঘর দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি। ঘরের ভেতরের খাট, সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল, আলমারি, দুই দফায় কয়েক লক্ষ টাকার ঘরস্থালী সামগ্রী এবং বাড়িতে থাকা ১০০০ ইট পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শুধু দখল বা লুটপাটই নয়, আবুল কাশেমের দাবি অনুযায়ী, তাকে হয়রানি করার জন্য বিবাদী মরিয়ম বেগম মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে কর্মস্থল থেকে বারবার আদালতে টেনে নিচ্ছেন এবং তাকে গ্রেফতার করিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করছেন।

বর্তমানে অসহায় এই দম্পতি নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা এবং পৈত্রিক ভিটা ফিরে পেতে পুলিশ সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ মহলে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। একজন উচ্চশিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তা হয়েও নিজ ভিটায় পরবাসী হওয়ার এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবী আইন ও প্রশাসন যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের পৈত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয় এবং এই ভূমিদস্যু চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা করে করে।

 

Scroll to Top