স্টাফ রিপোর্টার :
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২৯নং পাইককান্দি ও ৩০নং শশাবাড়িয়া মৌজার মধ্য দিয়ে নতুন করে খাল খনন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে গণ-আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই আবাদি জমি ও মাছের অভয়ারণ্য নষ্ট করে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে এই খাল খননের প্রক্রিয়া চলছে।
আবেদনপত্রে এলাকাবাসী উল্লেখ করেছেন যে, সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার গিয়ে ওই এলাকায় খাল কাটার জন্য সীমানা নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ওই স্থানে আগে কোনো খালের অস্তিত্ব ছিল না। সেখানে একটি বড় বিল রয়েছে যা স্থানীয় কয়েকশ কৃষক পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস।
স্থানীয়দের দাবি, যদি এই খালটি খনন করা হয় তবে বিলে নদীর নোনা পানি প্রবেশ করবে। এর ফলে:
কৃষির ক্ষতি: ইরি ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়বে শত শত একর জমি।
মৎস্য সম্পদের বিনাশ: বিলের মধ্যে থাকা ১০-১২টি পুকুর, যা দেশি মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যাতায়াত বাধা: বিলে কৃষি যন্ত্রপাতি ও ট্রাক্টর নিয়ে চাষাবাদ এবং ফসল আনা-নেওয়া করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পরিবেশগত বিপর্যয়: বর্ষা মৌসুমে কচুরিপানা ও নোনা পানি ঢুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির সৃষ্টি হবে।
গ্রামবাসীদের দাবি, এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই খাল কাটার পাঁয়তারা করছে। অথচ প্রস্তাবিত জায়গায় ওই ব্যক্তিদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। কেবল এলাকার সাধারণ কৃষক ও মৎস্যজীবীদের বিপদে ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
এলাকাবাসীর পক্ষে এস. এম. শাহজাহান কবির স্বাক্ষরিত এই আবেদনপত্রটি জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কেও প্রদান করা হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জনস্বার্থে এই খাল খনন দ্রুত বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
গোপালগঞ্জে ফসলি জমি ও জলাশয় রক্ষায় খাল খনন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন
- জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
- ১২:৫৪