Jugersathi

কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুন ক্রমশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। আগুন নেভাতে মোট ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। পানি স্বল্পতার কারণে বস্তির ঝিলপাড় খালে জেনারেটর লাগিয়ে পানি দিচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার ফাইটাররা জানান, যানজটের কারণে পানির গাড়ি অনেক দূরে রয়েছে। এ কারণে যে গাড়িগুলো কাছাকাছি আসতে পেরেছিল সেগুলোর পানি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে খাল থেকে জেনারেটর লাগিয়ে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পারে তিনটি জেনারেটর লাগানো হয়েছে। তিনটি জেনারেটর দিয়ে একাধিক পানির পাইপ লাগানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পান ফায়ার সার্ভিস। এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ। রাশেদ বিন খালিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। এছাড়া যানজটের কারণে এখনো পথে রয়েছে চারটি ইউনিট।
নিয়ন্ত্রণে ১৬ ইউনিট
ঢাকার মহাখালী এলাকায় কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ওই বস্তিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। প্রথমে সাতটি ইউনিট সেখানে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সাড়ে ৬টার দিকে পর্যায়ক্রমে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬টি করার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম। তিনি জানিয়েছেন, পথে রয়েছে আরও পাঁচটি ইউনিট। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গার ওপর ১০ হাজার ঘর রয়েছে এই বস্তিতে। যেখানে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডে ঘটে। চলতি বছরের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ওই বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়ে যায় অন্তত ডজনখানেক ঘর। গেল বছরের ২৪ মার্চ ও ১৮ ডিসেম্বরেও আগুনে পুড়ে কড়াইল বস্তি। প্রায় প্রতিবারই অগ্নিনির্বাপক বাহিনী জানিয়েছে, বস্তিতে ঢোকার রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেগ পেতে হয়। টিন, বাঁশ, কাঠের ঘরগুলো গায়ে গা লাগিয়ে ওঠানো হয়েছে; যার কারণে এখানে আগুন লাগলে দ্রুত ছড়ায়।
টিভি-ফ্রিজসহ মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নিচ্ছেন বস্তিবাসী
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। আগুন লাগার পরও অক্ষত অবস্থায় থাকা ঘরগুলো থেকে টিভি, ফ্রিজসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন বস্তিবাসী। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন লাগা ঘরের আশপাশে থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। অনেককেই কাঁধে করে টিভি ও ফ্রিজসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে নিতে দেখা যায়। আকলিমা খাতুন নামে এক বাসিন্দা রাস্তার পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই আনতে দিলো না। কষ্ট করে কিছু জিনিসপত্র কিনেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে। আমার কষ্ট আল্লাহ কেন দেখলো না। এমন কইরা আমাগো কেন মারে আল্লাহ। আজিজ শেখ নামের একজন মাথায় টেলিভিশন ও হাতে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বের হন। তিনি বলেন, এ দুইডা জিনিস বাইর করতে পেরেছি। বাকিসব পুইড়া গেছে। চোখের সামনে সব পুড়ে গেলো। স্কুলপড়ুয়া শিশু হাসান। তার কাঁধে একটি বড় বস্তা। সঙ্গে তার মায়ের দুই হাতে দুটি বড় ব্যাগ। হাসানের বাবা কাজে বাইরে থাকায় মায়ের সাথে যতটুকু পারে জিনিসপত্র বাইরে বের করছে। কথা হয় হাসানের মায়ের সঙ্গে। হাসানের মা লিমা আক্তার জানান, কিচ্ছু কইতে পারি না। আমাগো ঘরেই শুধু আগুন লাগে। ৬ বছর ধরে বস্তিতে থাকি। দুইবার আগুন লাগলো। এর আগেরবার খুব বেশি কিছু না পুড়লেও এবার দামি বড় আসবাবপত্র সব পুইড়া শেষ।
স্কুলপড়ুয়া শিশু হাসান, তার কাঁধে একটি বড় বস্তা। সঙ্গে তার মা লিমা আক্তার দুই হাতে দুটি বড় ব্যাগ নিয়ে বের হচ্ছেন। হাসানের বাবা বাইরে কাজে থাকায় মা-ছেলে যতটুকু পারে, জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন। লিমা আক্তার বলেন, ‘কিছুই বের করতে পারি নাই। আমাদের ঘরেই আগুন লেগেছে। ছয় বছর ধরে বস্তিতে থাকি, দুইবার আগুনের শিকার হয়েছি। আগেরবার খুব বেশি ক্ষতি হয়নি, কিন্তু এবার দামি আসবাবপত্র সব পুড়ে গেছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পান ফায়ার সার্ভিস। এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ। রাশেদ বিন খালিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। যানজটের কারণে এখনো পথে রয়েছে তিনটি ইউনিট। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের খবর জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।

Scroll to Top