স্টাফ রিপোর্টার
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাগুফতা হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৩০ জন কৃষকের হাতে বীজ, ডিএপি ও এমওপি সার তুলে দেন। ।
বীজ ও সার বিতরণকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা মণ্ডল, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা দেবাশীষ দাস, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু তাহের হেলাল, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, স্থানীয় সাংবাদিক, এসএপিপিও এবং বিভিন্ন গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় বলেন, রবি মৌসুমে উফশী ও হাইব্রিড ধানের আবাদ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৩০ জন কৃষকের প্রত্যেককে বিনামূল্যে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার আরও পাঁচ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে দুই কেজি করে হাইব্রিড জাতের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, স্বল্প খরচে উন্নত জাতের ধানের আবাদ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। সরকার কৃষকের পাশে আছে এবং থাকবে—এ কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি ইউএনও সাগুফতা হক বলেন, কৃষকই দেশের প্রাণ, কৃষিই আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি। কোটালীপাড়ার কৃষকেরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে যে ভূমিকা রাখছেন, তা শুধু উপজেলার চাহিদাই পূরণ করছে না—জাতীয় পর্যায়েও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে। শস্য উৎপাদনে কৃষকেরা যেন আরও সচেতন, উদ্যমী ও প্রযুক্তিনির্ভর হন সে বিষয়ে সরকার সব সময় কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, কৃষককে শক্তিশালী না করলে দেশের খাদ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হবে না। তাই প্রণোদনার এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে। প্রতিটি কৃষক যেন যথাসময়ে বীজ ও সার পায় এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারে, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা।
উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের চিতশী গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন দাড়িয়া সরকারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকরা বিনামূল্যের সার ও বীজ পাওয়ায় রবি মৌসুমে তাদের চাষাবাদ আরও প্রসারিত হবে এবং উৎপাদন খরচ কমবে।