স্টাফ রিপোর্টার:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ এবং প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৫৮ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে ৫৮টি বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপজেলার প্রান্তিক মৎস্যজীবীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা প্রকৌশলী সফিউল আজম, কৃষি কর্মকর্তা দোলন রায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল বসার হাওলাদার এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়ে ‘চায়না জাল’ ব্যবহারের ফলে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে, যা জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। একই সঙ্গে নির্বিচারে শামুক আহরণ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই সংকট নিরসনে জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইন মেনে মাছ আহরণ করতে হবে। সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ অনুসরণ করলে আমাদের জলজ সম্পদ দীর্ঘস্থায়ী হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সাগুফতা হক জানান, জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় এই গবাদিপশু সহায়ক হবে। এর ফলে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা তাদের জন্য সহজ হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ সতর্ক করে বলেন, “উপকারভোগীদের তালিকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে করা হয়েছে। কেউ যদি এই সরকারি সহায়তা (বাছুর) বিক্রি করে দেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। তারা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে দুধ ও বাছুর বিক্রি করে তাদের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে আরও নিবন্ধিত জেলেদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণে অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।