স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোটের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশের ফলে কারাগারে থেকেও নির্বাচনী মাঠে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি, যা এই আসনের সমীকরণে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর আগে: রিটার্নিং অফিসার: ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও দীর্ঘ শুনানি শেষে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়। সবশেষ উচ্চ আদালতে রিট করলে তার আইনজীবীরা প্রমাণ করেন যে, সংশ্লিষ্ট ঋণ জটিলতা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সবুজ সংকেত দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা রিটার্ণিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান কাবির মিয়ার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কাবির মিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও বিগত নির্বাচনের ফলাফল তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে লড়াই করে প্রায় ১ লক্ষ ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় তার সুসংগঠিত একটি বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। তিনি বরইতলা–মুকসুদপুর–কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হিসেবে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে কাবির মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলবন্দি অবস্থায় তার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার খবরটি তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।