Jugersathi

আমি দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিবো না-এসএম জিলানী   

স্টাফ রিপোর্টার:

গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী সম্প্রতি দৈনিক যুগের সাথীকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার, দুর্নীতি-বিরোধী অবস্থান, টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ডিজিটাল সেবার প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুগের সাথীর স্টাফ রিপোর্টার মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল।

সাক্ষাৎকারে এমপি জিলানী বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি জনগণের সেবা করার জন্য। এই বিজয় আমার একার নয়—এটি কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের বিজয়। আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ভোটের মাধ্যমে আমাকে জয়ী করেছে কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার সকল শ্রেনীপেশার মানুষ। আমার উপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি তা রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। নির্বাচনের সময় আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান—প্রতিটি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটাই হবে আমার প্রথম লক্ষ্য। তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম যেন কেবল কাগজে না থেমে বাস্তবে মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে—এটাই তার লক্ষ্য।

এমপি জিলানী বলেন, আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের এমপি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবার কল্যাণেই কাজ করবো। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই হবে আমার রাজনীতির মূল ভিত্তি।

তিনি আরও যোগ করেন, আমার দরজা সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে। মানুষের সমস্যা, দাবি ও পরামর্শ আমি গুরুত্বের সাথে শুনবো। জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই।

 

দুর্ণীতি প্রতিরোধে এস এম জিলানী বলেন, আমি নিজে কোনো দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দিবো না। উন্নয়নের নামে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখবো। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এমপি জিলানী জানান, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ রাস্তা ও সেতু সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রসার, কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও যুবসমাজকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং ক্ষুদ্র-মধ্যম আকারের ব্যবসা উদ্যোগ তৈরি করা হবে, যাতে তারা গোপালগঞ্জ জেলার বাইরে চাকরির সন্ধানে না যেতে হয়।

টেকসই উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু ভবন বা রাস্তা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এমন উন্নয়ন প্রয়োজন যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের উপকারে আসে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে। পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, খাল-নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিতে আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন।

মাদক সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াসহ পুরো গোপালগঞ্জ জেলায় মাদকের কোনো স্থান হবে না। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যুবকদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

নারী ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে এমপি এস এম জিলানী বলেন, নারীর উন্নয়ন ছাড়া সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেয়েদের শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, নারী উদ্যোক্তা তৈরি, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা জোরদার এবং নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ডিজিটাল সেবা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ, তথ্যপ্রাপ্তির সহজ ব্যবস্থা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে এমপি এস এম জিলানী বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আমি আশা করি সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ধরা পড়লে তা দ্রুত জানাবেন। গণমাধ্যম আমাদের সঙ্গে কাজ করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে। আপনারা জনগণের চোখ ও কণ্ঠস্বর হিসেবে সহযোগিতা করবেন।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের এমপি। তাঁর লক্ষ্য গোপালগঞ্জ জেলা, বিশেষ করে কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়াকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, পরিবেশবান্ধব, টেকসই উন্নয়নমুখী এবং বেকারত্বহীন মডেল অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা। জনগণের সহযোগিতা ও গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়েই তিনি সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবেন।

Scroll to Top